ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. হেনেয়ারা বেগমকে বিভাগীয় শাস্তি (দন্ড) প্রদান করা হয়েছে। বেতন স্কেল নিম্নতর করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। গত সোমবার (১০ নভেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা রুজু করে তদন্ত সম্পন্ন করা হয় এবং তদন্তে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। তবে হেসনেয়ারা বেগম নবীন কর্মকর্তা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে লঘুদন্ড হিসেবে বেতন স্কেল নিম্নতর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, নাজিরপুরে যোগদানের পর থেকেই হেনেয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তিনি নানা অজুহাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘুষ দাবি করতেন এবং চাহিদা পূরণ না হলে তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করতেন। এক পর্যায়ে ঘুষ দাবি সংক্রান্ত তার কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ না দেওয়ায় তিনি এক শিক্ষকের দিকে গ্লাস নিক্ষেপ করে ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে সাবেক শিক্ষা অফিসার মোসা. হেনেয়ারা বেগমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। পরে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

নাজিরপুর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল হাকিম বলেন, সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা হেনেয়ারা বেগম অফিসের দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়েই বদলিকৃত কর্মস্থলে চলে যান। পরে পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় আনুষ্ঠানিকভাবে আমি দায়িত্ব বুঝে নিই।

পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোল্লা বক্তিয়ার রহমান বলেন, নাজিরপুরের সাবেক উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোসা. হেনেয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই বছরের জন্য তার বেতন স্কেল নিম্নতর করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। হোসনেয়ার বেগম বর্তমানে মাগুরার শালিখা উপজেলায় কর্মরত আছেন।

By Ibrahim Ishan:

ইব্রাহিম ঈশান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *