সাম্প্রতিক সময়ে দেশের প্রশাসনে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কিছুটা শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়েছিল, যার ফলে পদোন্নতি ও পোস্টিং প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্নের উদ্ভব হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া নিলামধর্মী প্রতিযোগিতার রূপ নিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে যেখানে অধিক ব্যয় সক্ষম কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হতেন। পদোন্নতি ও গুরুত্ব পূর্ণ পদে পোষ্টিং এর ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে ঘোষ বাণিজ্যের অভিযোগ ছিলো।
কর্মকর্তার নিজের টাকা না থাকলেও সমস্যা ছিল না ফাইন্যান্সার’ থাকত। যারা ফাইন্যান্স বা বিনিয়োগ করত, তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে বিনিয়োগের ৩০% মুনাফা নিত। এভাবে চুক্তির মাধ্যমে বদলি ও পদোন্নতি হতো।
সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত দর উঠেছিল। সমন্বয়ক, জুলাই যোদ্ধা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি এসব পক্ষ এসব কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের পর পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পদোন্নতি ও পোস্টিং-সংক্রান্ত অনিয়ম এবং অসম প্রতিযোগিতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্রে জানাগেছে , জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ আব্দুল বারী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারের দক্ষ, অভিজ্ঞ ও নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের তত্ত্বাবধানে বদলি ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ আরও জোরদার হয়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান।
বর্তমানে প্রশাসনে দক্ষতা, মেধা ও পেশাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে বলেও শোনা যায়।
যোগ্যতার মাপকাঠিতে উপযুক্ত পদে পদায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করে পদোন্নতি প্রদানের প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে আস্থা ও পেশাদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে প্রশাসনে দীর্ঘমেয়াদে শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও সুশাসনের ভিত্তি আরও মজবুত হবে। একই সঙ্গে নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
