চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে সরাসরি জনসম্মুখে ক্ষোভ ঝেড়েছেন চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম রোমান (মানিক) এমপি সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে সরকারি দপ্তর পরিদর্শনকালে সাব-রেজিস্ট্রারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার এই কড়া হুঁশিয়ারি স্থানীয় মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি-র বাইরে অতিরিক্ত টাকা (ঘুষ) আদায়ের অভিযোগ ছিল। সাধারণ মানুষ জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন। এই অভিযোগগুলো সরাসরি স্থানীয় সংসদ সদস্যের কানে পৌঁছাতে
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম রোমান সাব-রেজিস্ট্রারকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেন: এমপি মানিক বলেন, উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অভিযোগের পাহাড় জমেছে। প্রতিটি দলিল সম্পাদনের জন্য সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা এবং নথিপত্রে ভুল ধরে বাড়তি টাকা দাবি করা এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিটি দলিলে সরকারি ফি-র বাইরেও বড় অংকের “স্পিড মানি” বা অবৈধ কমিশন দাবি করার বিষয়টি তিনি কঠোরভাবে সামনে আনেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, দলিলে বাড়তি টাকা নেয়ার এই সংস্কৃতি আর চলতে দেওয়া হবে না।
তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, সরকারি কর্মকর্তাদের কাজ হচ্ছে জনগণকে সেবা দেওয়া, জিম্মি করা নয়। সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে তিনি চুপ থাকবেন না
এমপি মানিক উক্ত সাব-রেজিস্ট্রারকে সতর্ক করে বলেন”আপনার নামে অভিযোগের শেষ নেই। প্রতিটি দলিলে যে বাড়তি টাকা দাবি করেন, সেটা বন্ধ করতে হবে। জনভোগান্তি কমান, অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংসদ সদস্যের এই সাহসী পদক্ষেপকে স্থানীয় সাধারণ জনগণ সাধুবাদ জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের মতে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সিন্ডিকেট ভাঙতে এমন কঠোর বার্তার প্রয়োজন ছিল। তবে এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট অফিসের কার্যক্রম কতটা স্বচ্ছ হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এটি মূলত সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে একজন জনপ্রতিনিধির সরাসরি অবস্থানের প্রতিফলন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার দিন শেষ।
