নীলফামারী সরকারি হাসপাতালে চার বছরে ‘অদৃশ্য’ ডিজেল ও ভুয়া ভাউচারের ছড়াছড়ি বিদ্যুৎ বিভ্রাট না থাকলেও জেনারেটরের ডিজেল ক্রয়ের নামে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাস্তবে জেনারেটর ব্যবহার না হলেও নিয়মিতভাবে ডিজেল ক্রয়ের বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

অভিযোগের তীর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবু হাজ্জাজের দিকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘ চার বছর ধরে একক ক্ষমতার অপব্যবহার করে হাসপাতালের বিভিন্ন খাতে ব্যাপক অনিয়ম করে আসছেন। ঠিকাদারদের কাছ থেকে ‘অডিটের নামে’ ৫ শতাংশ আদায়।

হাসপাতালের এমএসআর (মেডিকেল স্টোরস রুলস) খাত থেকে অডিটের কথা বলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫ শতাংশ হারে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার জানান, বিল পাশ করাতে গেলে নির্দিষ্ট হারে টাকা দিতে বাধ্য করা হতো।

পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, আইটি ও পরিবহন খাতে ভুয়া বিল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার নামে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকার বিল উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে সেবার মানে তার কোনো প্রতিফলন নেই। একইভাবে এসআর খাত, তথ্যপ্রযুক্তি খাত ও পরিবহন ব্যয়ের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে পরিবহন খাতে বাস্তব খরচের সঙ্গে বিলের কোনো মিল নেই বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা।

অ্যাম্বুলেন্সে মালামাল পরিবহন, অতিরিক্ত তেল ব্যবহার
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে রংপুর থেকে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক মালামাল পরিবহন করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ব্যবহার দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

*আউটসোর্সিং ও এমএসএস খাতে স্বজনপ্রীতি*
আউটসোর্সিং নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও আপত্তির কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মচারীরা। এমএসএস খাতে বিছানার চাদরসহ বিভিন্ন কাজ নিজের পছন্দের লোকদের দিয়ে করিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

*স্বৈরশাসনের মতো’ চার বছর*
স্থানীয় লোকজন ও হাসপাতালের কর্মচারীদের অভিযোগ, গত চার বছর ধরে কার্যত কোনো জবাবদিহি ছাড়াই হাসপাতালটি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
তাদের ভাষায়, “হাসপাতাল যেন লুটপাটের জন্যই কাউকে বসানো হয়েছে।”
তাদের দাবি, চার বছরের বিশেষ ও নিরপেক্ষ অডিট করা হলে প্রায় ২০ কোটি টাকার অনিয়ম বেরিয়ে আসবে।

তবে অভিযুক্তকে বহাল রেখে তদন্ত করলে তা লোক দেখানো ছাড়া কিছুই হবে না বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

প্রভাবশালী ছত্রচ্ছায়ার অভিযোগ আরও অভিযোগ উঠেছে, রংপুর বিভাগের স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতার কারণে তিনি এতদিন একই হাসপাতালে বহাল রয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

*জবাব নেই কর্তৃপক্ষের*
এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবু হাজ্জাজের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অভিযুক্তকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও বিশেষ অডিটের দাবি জানিয়েছেন।

 

*আব্দুল্লাহ-আল মাফিকে নীলফামারী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে পদায়ন করা হলেও আবু হাজ্জাজ দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়নি*

গত ৩০ অক্টোবর পোষ্টিং হয় নীলফামারী হাসপাতালে  ৪র্থ গ্রেডে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ডা: আব্দুল্লা-আল মাফির সিরিয়াল ২২ অথচ দায়িত্ব দিচ্ছে না  অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ডা: আবু আল হাজ্জাজ।

নীলফামারীর সন্তান আব্দুল্লাহ- আল মাফির চাকরি আর দেড় বছর আছে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি হাসপাতালের অনিয়ম দূর করে স্থানীয়দের স্বাস্থ্য সেবা সঠিকভাবে সরকারি ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা করবেন।

By Staff Correspondent:

নিজস্ব প্রতিবেদক :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *