পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ঢাকার শাহ আলী থানা এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি সৌখিন (২৫)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,(৮জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বদলগাছি উপজেলার পার আধাইপুর গ্রামের বুড়াকালী মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় এক নারীকে উদ্ধার করে বদলগাছি থানা পুলিশ। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বদলগাছি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আহত নারীর নাম তাহমিনা আক্তার রেবা। তিনি ধামইরহাট উপজেলার ধুরাইল গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী।
ঘটনার পরপরই নওগাঁর পুলিশ সুপার বদলগাছি থানাকে মামলা রুজু এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) আসামি শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে বিশেষ তদন্ত পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ডিবির একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ, সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে সৌখিনকে শনাক্ত করে।
এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় গাজীপুর ও ঢাকায় একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে (১১ জুলাই) বিকেলে ঢাকা মহানগরের শাহ আলী থানা এলাকা থেকে সৌখিন (২৫), পিতা মোনায়েম, গ্রাম মদনচক,থানা মান্দা, জেলা নওগাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর জেলা গোয়েন্দা শাখা ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে সৌখিন একপর্যায়ে তহমিনা ওরফে রেবাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
