আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উল্লাপাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন পাকা বোরো ধানের সোনালি গালিচা। বোরো ধানের বাম্পার ফলনে মাঠ জুড়ে সোনালী ধানের শীষে দক্ষিণা হাওয়ায় দোল খাচ্ছে কৃষকের হাজারো স্বপ্ন। তবে কষ্টে ফলানো ফসলের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা। তীব্র তেল সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বোরো ধানের ন্যায্য মূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা। একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, অন্যদিকে কম্বাইন হারভেস্টারের ভাড়া ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় সঠিক মূল্য না পাওয়ার ভয়ে আছেন কৃষকরা।
ইতোমধ্যেই কৃষকের ঘাম ঝড়ানো স্বপ্নের সোনালী ফসল কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেক কৃষক ও শ্রমিকরা। অনেকেই ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির ভয়ে আগেই ধান কাটা শুরু করেছে। সরেজমিনে উপজেলার সদর ইউনিয়নসহ বড়পাঙ্গাসী, বাঙ্গালা, পূর্ণিমাগাঁতী, কয়ড়া, দূর্গানগর, সলপ, পঞ্চক্রোশী, বড়হর, সলঙ্গা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ঝিরঝির হাওয়ায় দোল খাচ্ছে বিস্তির্ণ মাঠ জুড়ে পাকা ধান। কৃষকের স্বপ্নের ধান বর্তমানে সোনালী রং ধারণ করেছে। পাকা ধানের গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে। কেউ ধান কাটায়, কেউ মারাইয়ে, কেউ খর শুকাতে আবার কেউ ধান সেদ্ধতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা সদর ইউনিয়নের কৃষক জুয়েল, নাসির মিয়া, ভদ্রলোক গ্রামের আল আমিন, বাঙ্গালা ইউনিয়ন আবদুল কাদের, জসিম উদ্দিন, পূর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়নের হারুন মিয়া, সলঙ্গা ইউনিয়নের সাত্তার জানান, এ বছর চলতি মৌসুমে আমাদের এলাকায় বোরো ধানের বাম্পার ফসল ফলন হয়েছে। এ বছর পর্যাপ্ত সার, তেল ও বিদ্যুৎ ঠিকমত না পাওয়ায় বোরো ধান উৎপাদনে অনেক খরচ গুনতে হয়েছে। আগাম জাতের বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। আবাদে সারের মুল্য ও কৃষি শ্রমিকের মূল্য একটু বেশি। তাই, বাজারে ধানের মূল্য বেশি হলে বোরো ধান চাষে লাভবান হওয়ার আশাবাদী তারা।
এ বছর ফলন বেশি হলেও ন্যায্য মূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। তারা বলেন, আগের তুলনায় উৎপাদন খরচ ও শ্রমিক খরচ বেড়েছে। বোরো ধান চাষে প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে সার, সেচ, শ্রমিক ও বীজসহ মোট উৎপাদন খরচ প্রায় ১২-১৬ হাজার টাকার বেশি পড়ছে। জ্বালানি ও মজুরি বাড়ায় এই খরচ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। যার ফলে ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে এ উপজেলার কৃষাণ কৃষাণীরা। কারণ ব্যবসায়ীরা ভাল দাম পেলেও লাভবান হয় প্রান্তিক কৃষকরা। কৃষকরা অভিযোগ করে আরও জানান, ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা ন্যায়্য দাম পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কৃষকরা যে ধান ৯০০-১০০০ টাকা মন দরে বিক্রি করে, সেই ধানই কিনে নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিক্রি করে ১২০০-১৪০০ টাকা দরে। এতে আমরা কৃষক সমাজ ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন -সুমী জানান, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৩শত ৭০ হেক্টর। আবহাওয়া অনুকলে থাকায় চলতি বছর ৩০ হাজার ৩শত ৭৫ হেক্টর অর্জিত হয়েছে যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। ধান চাষ বৃদ্ধি করা জন্য কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত মানের ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় সেই সাথে ধানে পোকা মাকর ও ব্রাষ্ট ভাইরাস না থাকায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের যেন ক্ষতির সম্মুখীন হতে না হয় সে জন্য দুর্যোগের আগেই অন্তত ৮০ শতাংশ পেকেছে এমন ধান দ্রুত কেটে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
