জিম্বাবুয়ে প্রজাতন্ত্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত দক্ষিণ আফ্রিকায় আবাসিক) জনাব শাহ্ আহমেদ শফী আজ জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট ড. এমারসন ডামবুজো নাংগাগোয়া এর নিকট পরিচয়পত্র Letters of Credence) পেশ করেছেন। জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারেতে অবস্থিত স্টেট হাউসে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশ অনুষ্ঠানটি সকাল ৮:৩০টায় শুরু হয়ে সকাল ১১:৩০টায় শেষ হয়।

 

এ সময় রাষ্ট্রদূত শাহ্ আহমেদ শফির সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশন, প্রিটোরিয়ার প্রথম সচিব জনাব মোঃ তৌফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। একই দিনে পরিচয়পত্র পেশ অনুষ্ঠান উপলক্ষে মৌরিতানিয়া, পেরু এবং মরিশাসের রাষ্ট্রদূতগণও প্রেসিডেন্ট ড. এমারসন ডামবুজো নাংগাগোয়ার নিকট তাঁদের পরিচয়পত্র পেশ করেন।

 

পরিচয়পত্র পেশের পর রাষ্ট্রদূত শাহ্ আহমেদ শফী প্রেসিডেন্ট ড. এমারসন ডামবুজো নাংগাগোয়া সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় মিলিত হন এবং উভয়ে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদূত শাহ্ আহমেদ শফি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প, ওষুধশিল্প, সিরামিকস, ইলেকট্রনিক্স, কৃষি ও পর্যটন খাতে দেশের সক্ষমতা ও সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ এবং বিশ্বের ১৬০ টিরও বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। বাংলাদেশের ওষুধ গুণে ও মানে খুবই উন্নত এবং দামেও সাশ্রয়ী। বাংলাদেশ ক্রমেই কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলেও তিনি প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন। তিনি প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের কন্ট্রাক্ট ফার্মিং এর আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

 

এছাড়া অন্যান্য শিল্পপণ্য যেমন সিরামিক, জাহাজশিল্প, হালকা ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছে বলে তিনি অবহিত করেন। এসব খাতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বাণিজ্য প্রতিনিধি বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য তিনি জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসাবে জিম্বাবুয়ের ভূমিধ্বস বিজয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান।

 

প্রেসিডেন্ট ড. এমারসন ডামবুজো নাংগাগোয়া বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প ও কৃষিখাতের অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও বস্ত্রখাতে সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি জিম্বাবুয়ের নতুন পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তাঁর দেশ “Friend to All, Enemy to None” নীতি অনুসরণ করছে এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিকে জোরদার করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

প্রেসিডেন্ট নাংগাগোয়া, জিম্বাবুয়ের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা ও গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের জিম্বাবুয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বন্যপ্রাণী, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণসমূহ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। তিনি কৃষি, পর্যটন ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তিনি জিম্বাবুয়ের উৎপাদিক উন্নত মানের তুলা বালাদেশে রপ্তানির আগ্রহও প্রকাশ করেছেন ।
পরিচয়পত্র পেশ অনুষ্ঠানের ফাঁকে রাষ্ট্রদূত শাহ্ আহমেদ শফী জিম্বাবুয়ের পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত স্থায়ী সচিবের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, পর্যটন ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

জিম্বাবুয়ের পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত স্থায়ী সচিব বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে জয়েন্ট কমিশন গঠন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনা (FOC) শুরুর আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। এর আগে, ৩ জুন ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রদূত শাহ্ আহমেদ শফী জিম্বাবুয়ে সরকারের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, কৃষি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রী জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশে থেকে ওষুধ আমদানির আগ্রহ ব্যক্তকরেন।

By Staff Correspondent:

নিজস্ব প্রতিবেদক :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *