সদ্য বদলি হওয়া নওগাঁ জেলা প্রশাসক আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল এবং পছন্দের কিছু সাংবাদিককে ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা।

অভিযোগ রয়েছে, নওগাঁয় যোগদানের পর থেকেই তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংবাদিকদের অবহেলা করে কিছু  সাংবাদিককে আঁকড়ে ধরেন। ভূমি অফিস, অবৈধ ইটভাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে তাদের সহযোগিতা নিয়ে সুবিধা আদায় করেন তিনি। এমনকি সাংবাদিকদের নানা অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশিত হলেও তদন্ত না করে বরং দোষীদের পক্ষ নিতেন জেলা প্রশাসক।

তার বিরুদ্ধে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি পেতে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। এ সব অনিয়ম আড়াল করতে সবসময় পছন্দের সাংবাদিকদের ব্যবহার করেছেন তিনি।

গত আগস্টে মহাদেবপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এক রাতেই প্রায় ২০০ দলিল সম্পাদনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে দালাল চক্র ডিবিসি টিভির নওগাঁ প্রতিনিধি সাজুকে মারধর করে। অভিযোগ ওঠে, ওই অনিয়মের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের নামও জড়িত। এ নিয়ে সাংবাদিকরা অভিযোগ করলে বরং অপমান ও ভৎসনার শিকার হন তারা।

‘সম্মিলিত সাংবাদিক ঐক্য জোট’ নামে গঠিত সাংবাদিক ফোরামকে বারবার অবজ্ঞা করে তিনি কেবল নিজের পছন্দের কয়েকজন সাংবাদিককে বিজ্ঞাপন ও নানা সুবিধা দিয়ে বাকি সাংবাদিকদের সাথে বিমাতা সুলভ আচরণ করেন। গত ১৭ আগস্ট ওই জোটের নেতাদের সভাকক্ষে ডেকে অপমানও করেন তিনি। পরে সাংবাদিকরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেন।

অভিযোগ উঠেছে, নওগাঁ থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রামে গমনও হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে। জেলা জুড়ে আলোচিত হচ্ছে— ২২ কোটি টাকায় তিনি বদলি আদেশ নিশ্চিত করেছেন। এমনকি নওগাঁয় আসার সময়ও ৩ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এ নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সাংবাদিক সমাজ বলছে, আব্দুল আউয়ালের কর্মকাণ্ডের কারণে সাংবাদিকদের মধ্যে সম্প্রীতি নষ্ট হয়েছে, ভেঙে গেছে ঐক্য।

By cwn24

অপরাধ অনুসন্ধানে ২৪ ঘন্টা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *