বগুড়ার শেরপুরে এক ছাত্রীর গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দুই কিশোর-কিশোরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুজনই স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নবম শ্রেণির ছাত্রীর (১৫) সঙ্গে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের (১৬) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ওই কিশোর ভুক্তভোগীকে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায় এবং সেখানে তার অজান্তেই গোপনে ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে ওই ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল শুরু করা হয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় গত ২৭ মার্চ ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরী বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর শেরপুর টাউন পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশি অভিযানে শহরের মহিপুর বাজার এলাকা থেকে এক কিশোর এবং উত্তরসাহা পাড়া এলাকা থেকে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৪) গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, মামলার আসামিরা সবাই শেরপুর পৌর শহরের বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে।
তিনি আরও জানান, মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো আলামত হিসেবে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।
