যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিনারা পারভীনের বিরুদ্ধে আসামি গ্রেপ্তার না করার আশ্বাস দিয়ে দফায় দফায় অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি ও তার স্বামী মিলে এক ধরনের ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন এবং টাকা নেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেন।
জানা যায়, যশোর সদর উপজেলার কামালপুর গ্রামের বাসুদেব বিশ্বাসের মেয়ে ও কিশোর বিশ্বাসের ছেলে তন্ময় বিশ্বাস প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি এবং মামলা (নং-৪৯) দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় তিনজনকে আসামি করে আদালতে আরও একটি অপহরণ মামলা (নং-১২৬/২০২৬) করা হয়।
মামলার তদন্তভার পান এসআই মিনারা পারভীন।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তিনি আসামিদের গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি শুরু করেন। এ কাজে তার স্বামী, যিনি একটি বেসরকারি সংস্থা (জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন)-এ কর্মরত, সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের আগে যশোর শহরের মুজিব সড়কে আসামিপক্ষকে ডেকে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন এসআই মিনারা পারভীন। তাৎক্ষণিকভাবে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হলেও পরে বিভিন্ন কৌশলে শহরের নাথ কম্পিউটারের সামনের গলিতে ডেকে আরও ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে আপোষ-মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ‘বিপ্লব’ নামে এক রাইটারের মাধ্যমে আপোষনামা লিখিয়ে তা এফিডেভিট করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দেওয়ার কথা বলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আরও ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপরও অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হলে আসামিপক্ষ অপারগতা প্রকাশ করে। এর জের ধরে গত ১১ এপ্রিল বিকেলে মামলার এক নম্বর আসামি তন্ময় বিশ্বাসকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা থানায় গিয়ে প্রতিবাদ জানালে এসআই মিনারা পারভীন ১০ হাজার টাকা ফেরত দেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী কিশোর বিশ্বাস বলেন, “আমার ছেলেকে আটক না করার জন্য টাকা দিয়েছি। কিন্তু পরে আরও টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় আপোষ হওয়ার পরও আমার ছেলেকে আটক করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত বিশ্বাস জানান, “আমরা বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফায় টাকা দিয়েছি। কিন্তু টাকা নিয়েও তিনি কথা রাখেননি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মিনারা পারভীন প্রথমে তা অস্বীকার করলেও পরে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, টাকা নেওয়ার পর তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর তাকে কেশবপুর থানায় বদলি করা হয়েছে।
কোতোয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল আক্তার বলেন, “টাকা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল মনে করছে, পুলিশের দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের অনিয়ম আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

By Ibrahim Ishan:

ইব্রাহিম ঈশান ঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *